ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেষ্ট (আইএসপিপি)-যত্ন প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

প্রকল্প পরিচিতি

আইএসপিপি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিদরিদ্রদের জন্য আইএসপিপি-যত্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আয় সহায়ক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলায় অতিদরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও তাদের মা’দের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। এই কর্মসূচীর উপকারভোগী হচ্ছে অতিদরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৫ বছরের কম বয়সী প্রথম ও দ্বিতীয় শিশু এবং তাদের মা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ  মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচিত ৪৩টি উপজেলায় অতিদরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ০ থেকে ৬০ মাস বয়সী শিশুর মা’দের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমেঃ ক) শিশুদের পুষ্টি ও মনোদৈহিক বিকাশ সাধন খ) সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

উপকারভোগীঃ অতিদরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সী প্রথম ও দ্বিতীয় শিশু এবং তাদের মা। প্রায় ৬,০০,০০০ (ছয় লক্ষ) দরিদ্র উপকারভোগী এ প্রকল্পের আওতায় সরাসরি উপকৃত হবেন।

প্রকল্প কার্যক্রমঃ তিনটি কম্পোনেন্ট-এর সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছেঃ

কম্পোনেন্ট-১ঃ উপকারভোগীগণকে অর্থ প্রদান

ক)অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ৪ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নগদ অর্থ প্রদান

খ) ০-২৪ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে ওজন ও উচ্চতা (GMP) পরীক্ষার জন্য অর্থ প্রদান

গ) ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের ৩ (তিন) মাস অন্তর ওজন ও উচ্চতা (GMP) পরীক্ষার  জন্য অর্থ প্রদান

অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ০-৫ বছর বয়সের শিশুর মা’দের জন্য প্রতি মাসে শিশু-পুষ্টি ও মনোদৈহিক বিকাশ (CNCD) সংক্রান্ত শিক্ষামূলক সেশনে অংশগ্রহণের জন্য অর্থ প্রদান।

নির্বাচিত উপকারভোগীগণ কর্তৃক উল্লিখিত সেবা গ্রহণ এবং CNCD সেশনে অংশগ্রহণের উপস্থিতি ফিঙ্গার ভেইন স্ক্যানারের সাহায্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিশ্চিত করা হবে। উপকারভোগীগণের প্রাপ্য অর্থ প্রতি ৩ মাস অন্তর পোস্ট অফিসের ব্যবস্থাপনায় POS মেশিন ও ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

কম্পোনেন্ট-২ঃ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম

ক) উপকারভোগীগণকে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি এবং আপত্তি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি

খ) মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা (ANC এবং GMP) প্রদান ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের দক্ষতা উন্নয়ন

গ) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আইএসপিপি ক্যাশ কার্র্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীগণের নিকট অর্থ প্রদানে পোস্ট অফিসের দক্ষতা উন্নয়ন

ঘ) সেফটি নেট সেল (SNC) স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ।

কম্পোনেন্ট-৩ঃ পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন

একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন, প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, সেবা গ্রহণ, অর্থ প্রদান, আপত্তি নিষ্পত্তি ইত্যাদি কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন।

 

প্রকল্পের উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতাঃ

নির্দিষ্ট দারিদ্র্য সীমার আওতাভুক্ত যে সকল পরিবারে নিম্মোক্ত বৈশিষ্ট্যের সদস্য রয়েছে তারাই কেবল প্রকল্পের উপকারভোগী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবেনঃ

১. যে পরিবারে অন্তঃসত্ত্বা নারী আছে

২. ০-২৪ মাস বয়সী শিশু আছে (অবশ্যই প্রথম অথবা দ্বিতীয় শিশু হতে হবে)

৩. ২-৪ বছর বয়সী শিশু আছে (অবশ্যই প্রথম অথবা দ্বিতীয় শিশু হতে হবে)

উপকারভোগী অন্তর্ভুক্তকরণের সময় নিম্মোক্ত তথ্যাদি যাচাই করা হবেঃ

১. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ড

২. অন্তঃসত্ত্বা টেস্ট সার্টিফিকেট

৩. সন্তানের জন্ম সনদপত্র অথবা টিকা কার্ড

প্রকল্পের সুবিধা হতে অব্যাহতিঃ

প্রকল্পের সুবিধা হতে উপকারভোগীগণকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষেত্রসমূহঃ

১. সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বাকাল শেষ হয়ে গেলে

২. শিশুর বয়স ৬০ মাস পূর্ণ হলে

৩. অন্তঃসত্ত্বা নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে

৪. আইএসপিপি প্রকল্প এলাকা থেকে অন্যত্র চলে গেলে

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোঃ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সরাসরি বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ জন প্রকল্প পরিচালক এবং ১ জন উপ-প্রকল্প পরিচালক রয়েছেন। প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাঃ

জেলা প্রশাসক

  • প্রশাসক জেলা পর্যায়ে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করবেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন
  • উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির প্রধান হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন তদারকি করবেন
  • কার্যক্রম যথাযথ সমন্বয়ের জন্য অন্যান্য পার্টনার এজেন্সির (বিবিএস, হেলথ সার্ভিস ও বিপিও) জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন
  • বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জেলা পর্যায়ে উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি (প্রয়োজনে আইএসপিপি পিএমইউ’র সাথে আলোচনা করা যেতে পারে)
  • পর্যায়ের প্রকল্প কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আপত্তি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন

 উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার

উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রকল্পের কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় এবং সুষ্ঠু বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কাজে জেলা প্রশাসক-কে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

  • পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় গৃহীত সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন তদারকি
  • বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তালিকা পর্যালোচনাপূর্বক জেলা প্রশাসককে অবহিত রেখে অনুমোদনের জন্য আইএসপিপি কর্তৃপক্ষকে প্রেরণ
  • আইএসপিপি ক্যাশ কার্ড গ্রহণ ও বিতরন
  • পেমেন্ট লিষ্ট অনুযায়ী পেমেন্ট কার্যক্রম মনিটরিং করা
  • কার্যক্রম যথাযথ সমন্বয়ের জন্য অন্যান্য পার্টনার এজেন্সির (বিবিএস, হেলথ সার্ভিস ও বিপিও) উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ
  • আওতায় নিয়োগকৃত বিভিন্ন ফার্ম/এনজিও-এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম মনিটরং ও সমন্বয়
  • -এর কার্যাবলী তত্ত্বাবধান ও সার্বিক দিক নির্দেশনা প্রদান
  • কার্যক্রম সম্পর্কিত আপত্তি নিস্পত্তিকরণ

ইউনিয়ন পরিষদ

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণের সহায়তায় জনসচেতামূলক  কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রকল্পের উপকারভোগী অন্তর্ভূক্তকরণ সম্পন্ন করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সেল (এসএনসি) ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত হবে, যেখানে আইএসপিপি সংক্রান্ত সব প্রাসঙ্গিক তথ্য থাকবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আইএসপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সকল কাজের তদারকি ও রিপোর্টিং-এর জন্য এসপিএ দায়িত্ব পালন করবেন।

সেফটি নেট সেল (এসএনসি)

স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজতর করতে একজন সেফটি নেট প্রোগ্রাম এ্যাসিস্ট্যান্ট (এসপিএ)-এর অধীনে ইউনিয়ন পরিষদে একটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সেল (এসএনসি) স্থাপন করা হবে যা উপকারভোগী অন্তর্ভুক্তি, কমপ্লায়েন্স তদারকি, অর্থ প্রদান এবং আপত্তি ও অভিযোগ নিস্পত্তিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম পরিচালনায় ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পভুক্ত ৪৪৪টি ইউনিয়নে এই সেফটি নেট সেল (SNC) কাজ করবে। প্রতিটি এসএনসি/ এসপিএ-এর কার্যাবলী ইউএনও-এর সার্বিক দিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত হবে।

দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পের প্রভাবঃ

অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুর পুষ্টি এবং মনোদৈহিক বিকাশে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের ফলে মানব সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে এবং এভাবে উক্ত পরিবারের উপার্জন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলশ্রুতিতে উক্ত পরিবারটি দারিদ্র্য হতে মুক্তি লাভ করবে।

প্রকল্পের অধীনে উপকারভোগী মায়েদেরকে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের ফলে পরিবারে নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সমাজে নারীদের আত্ন-নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে, একই সাথে দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেফটি নেট সেল (SNC) স্থাপনের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম  বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

 

প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট

ডিপিএইচই ভবন, লেভেল-৮, ১৪ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী

কাকরাইল, ঢাকা-১০০০

ফোন: ০২-৫৫১৩০৫১৩-১৪ , ই-মেইল: info.ispp.lgd@gmail.com